ভবিষ্যত পৃথিবী রাজ্যত্ব করবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স!
ভবিষ্যত পৃথিবী রাজ্যত্ব করবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স!
আমাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার বা তৈরিকৃত রোবটটির মাঝে যদি আমাদের মতোই ভাব-আবেগের উদয় হয় ব্যাপারটি খুব বিস্ময়কর লাগবে, তাই না? আবার যদি সেটি নিজ থেকেই কিছু তৈরি করতে শিখে যায় সেটি হবে আরও বিস্ময়কর। মানুষের তৈরি রোবট যদি মানুষের চেয়েও স্মার্ট হয়ে যায় তাহলে কী হবে? হ্যাঁ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন একটি প্রোগ্রাম যা নিজে নিজেই কিছু করে ফেলবে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।
অ্যালেক্সা বা গুগল অ্যাসিস্টেন্ট এগুলোই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উদাহরণ। যদি লক্ষ্য করি, ইউটিউবে যে ধরনের ভিডিও বেশি বেশি দেখা হয়, টাইমলাইনে সেগুলোই এসে যায়। আবার যেই টাইপের পণ্য/প্রোডাক্ট ওয়েবসাইটে আমরা ভিজিট করি সেই একই টাইপের প্রোডাক্ট আমাদেরকে অ্যাড হিসেবে দেখানো হয়। কারণ, আমাদের ব্রাউজার হিস্ট্রি ও ক্যাশে সেগুলোকে ট্র্যাক করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে।
কৃত্রিম বুদ্ধি বিষয়টি আগে কেবল সায়েন্স ফিকশন মুভিগুলোতে লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমানে তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন ২০৫০ সালে আমাদের সকল কার্যক্রম কৃত্রিম বুদ্ধির সহায়তায় সংঘটিত হবে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রকারভেদ
প্রথমত: আর্টিফিশিয়াল ন্যারো ইন্টেলিজেন্স
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের ডিভাইস বা মোবাইলে আমরা যে তাস, দাবা এবং লুডু খেলি, সেখানে আমাদের প্রতিপক্ষ কিন্তু কেউ একজন থাকে। সেটাই আর্টিফিশিয়াল ন্যারো ইন্টেলিজেন্স।
দ্বিতীয়ত: আর্টিফিশিয়াল ওয়াইড ইন্টেলিজেন্স
যা ন্যারো ইন্টেলিজেন্সের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। গুগল ভয়েস সার্চ বা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট সর্বদা প্রস্তুত। আমরা আদেশ বা সার্চ করা মাত্রই সে তথ্য বের করে দেয়। অ্যাপেলের সিরি এবং মাইক্রোসফটের করটানা মানুষের কথা ইতোমধ্যেই বুঝতে সক্ষম হয়েছে। গুগল ফটোজ-এর মধ্যে যদি অনেকগুলো ছবি একসাথে রেখে দেই, ক্যাটাগরি অনুযায়ী সেগুলো সুন্দরভাবে অবস্থান করে। গুগল ফটোজের সার্চ বক্সে যদি আমরা "পাহাড়" লিখে সার্চ করি, তাহলে ওই ছবিগুলোর মধ্যে যতগুলো পাহাড়ের ছবি আছে সব চলে আসবে।
তৃতীয়ত: আর্টিফিশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স বা সিঙ্গুলারিটি
এটি যে কাউকে চিন্তায় ফেলে দিতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, আর্টিফিশিয়াল ওয়াইড ইন্টেলিজেন্সের যে কম্পিউটারগুলো থাকবে, তারা নিজেদের ভুল শোধরে আরও উন্নত কম্পিউটার তৈরি করবে। তারপর সেই উন্নত কম্পিউটারগুলো আরও উন্নত কম্পিউটার বানাবে। যেহেতু তাদের নিজস্ব বুদ্ধি বা শোধরানোর ক্ষমতা থাকবে তাই তারা নিজেদের ভালোটা দেখবে। এমনটাও হতে পারে তারা মানুষের আর কোনো কথাই শুনবে না। টারমিনেটর সিরিজের হলিউডের বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন মুভিগুলোতে এই সিঙ্গুলারিটি দেখানো হয়েছে।
এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যেভাবে আমাদের ক্ষতি করতে পারে
একটি ঘটনা শেয়ার করি: ২০১৭ সালের (জুলাই-আগস্ট) মাসের ঘটনা। আমরা এখন যে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক ব্যবহার করি, এটির একজন ডেভেলপার চেয়েছিলেন একটি চ্যাটবট তৈরি করতে। চ্যাটবট হলো এমন একটি প্রোগ্রাম যেখানে মেশিন মানুষের সাথে কথা বলবে এবং প্রশ্নের উত্তর দেবে। এরপর ফেসবুকের ইঞ্জিনিয়াররা চাইলেন দুটি চ্যাটবটকে একে অপরের সাথে কথা বলাতে। তাদের নাম দেওয়া হলো বব এবং এলিস। তারা দেখলেন, চ্যাটবট দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ভাষায় কথা বলছে। চ্যাটবট দুটি আলাদা একটি ভাষা ডেভেলপ করে ফেলেছিল যা ইঞ্জিনিয়াররা বুঝতেই পারলেন না।
তার কিছুদিন পরেই ফেসবুক থেকে এই চ্যাটবট অপশন বাতিল করা হয়। আরও একটি ঘটনা ১৯৯৭ সালে আইবিএম-এ তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডিপ ব্লু দাবা খেলায় তৎকালীন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভকে হারিয়ে দেয়। এর থেকেই বোঝা যায়, বুদ্ধির দৌড়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানুষের চেয়ে কতটা এগিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
স্টিফেন হকিং ও ইলন মাস্ক বারবার বলেছেন, মানুষ যদি কম্পিউটারের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তাহলে পৃথিবীতে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হবে, যা হবে মানুষ ও কম্পিউটারের মধ্যে। সেখানে কম্পিউটারই বিজয়ী হবে। কারণ, মানুষ তার বুদ্ধির মাত্র ১০% ব্যবহার করতে পারে, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার ১০০% ব্যবহার করতে পারে।
ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গবেষক দলের পরিচালক ইয়ান লেকুন বলেছেন, ভবিষ্যৎ রোবটদের মানবসদৃশ আবেগ একটি বড় ভুল ধারণা। তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে রোবটগুলো কেবল নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিউচার অফ হিউম্যানিটি ইন্সটিটিউটের মাইলস ব্রান্ডেজ মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দুর্বৃত্তদের হাতে পড়লে হ্যাকিং, তথ্য চুরি এবং গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপের মতো সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
আফফান ইয়াসিন
আরবি বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Comments
Post a Comment